ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ভিত্তি স্পষ্ট না হওয়া, চলমান প্রকল্পের ধীরগতি এবং অপ্রয়োজনীয় পরামর্শক ও গাড়ির প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
এসব বিষয় সংশোধন করে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থ ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বাছাই করতে হবে।
কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের আওতায় নেওয়া যাবে না।
আগে সরকারি সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানও নতুন করে এই প্রকল্পের বরাদ্দ পাবে না।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের শুধু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ দেওয়া যাবে।
সীমানাপ্রাচীরে টাইলস, প্রতিষ্ঠানের বাইরের দেয়ালে টাইলস বসানো কিংবা ফটক দৃষ্টিনন্দন করার মতো সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে রাজনৈতিক বিবেচনার বদলে জনসম্পৃক্ততা ও এলাকার বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে বলেছে কমিশন।
প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা এলাকা অনুযায়ী সাজিয়ে ডিপিপিতে যুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা এলজিইডি।
অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর পুরো ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদ্বার ও ঈদগাহসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়ন করার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবে প্রায় ৩০ হাজার অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হলেও কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে বাছাই করা হবে, তা নিয়ে সভায় প্রশ্ন ওঠে।
প্রকল্পে চারজন পরামর্শকের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল।
তাদের মধ্যে ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার, ড্রয়িং ও ডিজাইন প্রস্তুতকারী, ফিন্যান্স ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ এবং অফিস ব্যবস্থাপক রাখার প্রস্তাব ছিল।
তবে এলজিইডির নিজস্ব জনবল দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব বলে পরামর্শক খাত বাতিলের সুপারিশ করেছে মূল্যায়ন কমিটি।
প্রকল্পে একটি জিপ কেনার জন্য প্রস্তাবিত ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার বরাদ্দও বাদ দিতে বলা হয়েছে।
এর পরিবর্তে প্রয়োজন অনুসারে একটি গাড়ি ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে বলেছে কমিশন।
প্রকল্পে ৫৯৮ জন জনবল আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।
ফিন্যান্স ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ ও অফিস ব্যবস্থাপকের জন্য পরামর্শক খাতে রাখা ৮১ লাখ টাকার বরাদ্দ বাদ দিয়ে ডিপিপি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রচার ও বিজ্ঞাপন, প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ, যন্ত্রপাতি ও আসবাবসহ কয়েকটি খাতের ব্যয়ও কমানোর পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
নতুন প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়েও সভায় প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ একই ধরনের ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ বাস্তবায়ন করছে।
জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের চলমান প্রকল্পটির জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল মাত্র ৪৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।
মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও অর্ধেক কাজ শেষ না হওয়ার কারণ ও নতুন প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছে কমিশন।
চলমান প্রকল্পটি সময়মতো শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর মূল্যায়ন প্রতিবেদন নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের পরামর্শ অনুসারে ব্যয় পুনর্নির্ধারণ ও ডিপিপি পুনর্গঠনের পর প্রকল্পটি আবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে।