একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় ৬৭,৭২৯ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প

আটটি নতুন ও চারটি সংশোধিত প্রস্তাব; মোট ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের

৬৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকার ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় আটটি নতুন ও চারটি সংশোধিত প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের নথি অনুযায়ী, অপেক্ষমাণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সাতটির সঙ্গে বৈদেশিক অর্থায়ন যুক্ত রয়েছে।

তালিকায় সবচেয়ে বড় প্রকল্প ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট।

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এই মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা ১২টি প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের প্রায় ৬৭ শতাংশ।

প্রকল্পটির ব্যয়ের মধ্যে সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ।

প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পটির ব্যয় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়বে ৪ হাজার ৯৯০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ সংশোধন করে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে সরকার দেবে ৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৭ হাজার ৪৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং অনুদান পাওয়া যাবে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

প্রকল্পটিতে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক বা এআইআইবির অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর অবকাঠামো নির্মাণে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প তালিকায় রয়েছে।

এতে সরকার দেবে ৯৪২ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং এডিবির কাছ থেকে ২ হাজার ৮৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।

খুলনা নগরের পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় প্রথম সংশোধনীতে ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খুলনা ওয়াসার প্রকল্পটিতে সরকার দেবে ১ হাজার ৫১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং এডিবির ঋণ থেকে আসবে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

সড়ক খাতে চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করতে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে নেওয়া আরেকটি নতুন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দুটি প্রকল্পই পুরোপুরি সরকারি অর্থে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনীর সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প তালিকায় রয়েছে।

আর্থিক খাত সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্পটিতে বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং নিজস্ব উৎস থেকে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া প্রকল্পটিতে জাইকার সহায়তা হিসেবে ৩২১ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সরকারি অর্থায়ন হিসেবে ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

তিনটি সিটি করপোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা চালুর প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৩৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রকল্পটিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে ৩৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ এবং সরকার থেকে ১৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মনপুরা দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় প্রথম সংশোধনীতে ১৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অপেক্ষমাণ তালিকার আরেকটি নতুন প্রকল্পে বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়নে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রকল্পটি পুরোপুরি অনুদানের অর্থে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

SEO সারাংশ: মেট্রোরেল, রেলপথ, সড়ক, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতসহ ৬৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্যয় হবে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটে।

ট্যাগ: একনেক, উন্নয়ন প্রকল্প, পরিকল্পনা কমিশন, এমআরটি লাইন-৫, মেট্রোরেল, বাংলাদেশ রেলওয়ে, এডিবি, এআইআইবি, বৈদেশিক

ট্যাগ: উন্নয়ন প্রকল্প এআইআইবি একনেক এডিবি এমআরটি লাইন-৫ পরিকল্পনা কমিশন বাংলাদেশ রেলওয়ে বৈদেশিক ঋণণ মেট্রোরেল

সম্পর্কিত