বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.২৬ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮.৩২ শতাংশ।
অর্থাৎ এক মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে মাত্র ০.০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বা ৬ বেসিস পয়েন্ট।
সোমবার প্রকাশিত বিবিএসের ‘কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স, ইনফ্লেশন রেট অ্যান্ড ওয়েজ রেট ইনডেক্স ইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৭.১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে কমে ৭.০২ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৩২ শতাংশে উঠেছে।
তবে বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক দাম বেড়েছে ২.৩১ শতাংশ।
এর মধ্যে খাদ্যের দাম বেড়েছে ৩.৮৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে ১.০৫ শতাংশ।
এক মাসের ব্যবধানে দাম বাড়ার এই গতি জুন থেকেই দ্রুত হচ্ছে।
জুনে আগের মাসের তুলনায় সার্বিক দাম বেড়েছিল ০.৩৪ শতাংশ, যা জুলাইয়ে বেড়ে ১.৪৪ শতাংশ এবং আগস্টে ২.৩১ শতাংশে পৌঁছেছে।
খাদ্যপণ্যের মাসভিত্তিক দাম জুনে ০.৫৩ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ২.৫৭ শতাংশ বাড়ার পর আগস্টে বেড়েছে ৩.৮৬ শতাংশ।
সাবেক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, সাম্প্রতিক প্রবণতা সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, গত এক বছরের আগের মাসগুলোতে পণ্যমূল্যের মাসিক গড় বৃদ্ধি ছিল প্রায় ০.৩৬ শতাংশ, অথচ আগস্টে তা ২.৩১ শতাংশে পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।
পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ও মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতির হিসাব আলাদা হওয়ায় বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও আগস্টে বাজারে পণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে।
পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতিতে আগের বছরের একই মাসের সঙ্গে বর্তমান দাম তুলনা করা হয়, আর মাসভিত্তিক হিসাবে ঠিক আগের মাসের তুলনায় দাম কতটা বেড়েছে বা কমেছে, তা দেখা হয়।
বিবিএসের হিসাবে, জুনে সার্বিক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ, যা জুলাইয়ে কমে ৮.৩২ শতাংশ এবং আগস্টে ৮.২৬ শতাংশ হয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.২৯ শতাংশ।
বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মধ্যে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ১৪.৭৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে বিবিধ পণ্য ও সেবা খাতে।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৪৯ শতাংশ এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, তামাক ও মাদকজাত পণ্যে ছিল ১১.৮৩ শতাংশ।
পোশাক ও জুতায় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৯৪ শতাংশ, আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিতে ৯.৪৪ শতাংশ এবং পরিবহনে ৯.৪১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম ৩.৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করেছে বিবিএস।
শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা বেশি ছিল।
আগস্টে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩১ শতাংশ, আর শহরে ছিল ৮.২০ শতাংশ।
তবে এক মাসে শহরের খাদ্যপণ্যের দাম ৪.০৯ শতাংশ বেড়েছে, যা গ্রামে বেড়েছে ৩.৭৪ শতাংশ।
গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৫৯ শতাংশ এবং শহরে ৮.৯৭ শতাংশ।
এদিকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমেছে।
আগস্টে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৫ শতাংশ, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০.২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
জুলাইয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২২ শতাংশ এবং জুনে ছিল ৮.১৮ শতাংশ।
আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮.০৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭.৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.২৫ শতাংশ।
আগস্ট পর্যন্ত সর্বশেষ ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৬ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯.৫৮ শতাংশ।