মানুষ–প্রাণী–পরিবেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২,৭৬০ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিন হাজার একশ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার।

এতে ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২,৭৬০ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে বহুজাতিক উন্নয়ন সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত শনাক্ত করা, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং মহামারিসহ স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ওয়ান হেলথ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সরকারের নিজস্ব তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুতিসহ মোট ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সংস্থান হয়েছে। ফলে প্রকল্পটিতে এখনো ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি থাকছে।

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা আইডিএর দেওয়া ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার আসবে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে।

বাকি ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাওয়া যাবে আইডিএর গ্লোবাল অ্যান্ড রিজিওনাল অপরচুনিটিজ উইন্ডো নামের বিশেষ তহবিল থেকে।

এই তহবিল মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সংকট ও সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর যৌথ কার্যক্রমে অর্থায়ন করে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশের অর্থ ব্যয় হবে রোগ প্রতিরোধ এবং কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে।

এ খাতে রাখা হয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত ঋণের প্রায় ৬৪ শতাংশ।

রোগের আগাম সতর্কতা, নজরদারি ও পরীক্ষাগারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ব্যয় করা হবে ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে রাখা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, প্রকল্প পরিচালনা এবং তথ্য ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণে ব্যয় হবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখতে প্রকল্পে আলাদা একটি খাত রাখা হলেও শুরুতে সেখানে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

প্রকল্পটির মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর ফলে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন রোগ শনাক্তে স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ বাড়বে।

স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে গত ২৪ আগস্ট অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে ঋণ নিয়ে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান।

২৭ আগস্ট আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, আলোচনা শেষ হলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদে তোলা হতে পারে।

ঋণচুক্তির খসড়া, প্রকল্প মূল্যায়ন দলিল, অর্থ ছাড়ের পদ্ধতি এবং পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এসব নথির ওপর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত চেয়েছে।

ট্যাগ: আইডিএ ওয়ান হেলথ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বন অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংক রোগ নজরদারি স্বাস্থ্য অবকাঠামো স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর

সম্পর্কিত