দেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় আটটি ছয়তলা কারখানা ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়েও শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বেপজা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গত ২৬ আগস্ট প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে।
‘বেপজার আওতাধীন ইপিজেডসমূহে ৮টি ৬ তলা কারখানা ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুমোদন পায়। এর অনুমোদিত ব্যয় ৪৬ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। পরে ব্যয় না বাড়িয়ে প্রথম দফায় এক বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এখন দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বেপজা।
প্রস্তাব অনুমোদন হলে তিন বছরের প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল বেড়ে সাড়ে চার বছরে দাঁড়াবে।
প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে আটটি কারখানা ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো।
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ১১টি প্যাকেজের মধ্যে তিনটি ভবন নির্মাণ এবং দুটি পণ্য কেনার প্যাকেজসহ পাঁচটির কাজ শেষ হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার কারণে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুটি পণ্য কেনার একটি প্যাকেজ এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বাকি পাঁচটি প্যাকেজের কাজ চলছে। এর মধ্যে তিনটি ভবন নির্মাণ প্যাকেজের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।
প্রকল্পটির সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। অথচ বর্ধিত সময়ের প্রায় ৯০ দশমিক ২১ শতাংশ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে।
বেপজা জানিয়েছে, আটটি ভবনের মধ্যে পাঁচটির ১৫টি ফ্লোর স্পেস ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি ভবনের নির্মাণকাজে ঠিকাদারসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় পুরো প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি কারখানা ভবনের নির্মাণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তবে উত্তরা ইপিজেডের একটি ছয়তলা কারখানা ভবনের ছাদ নির্মাণের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। বাকি কাজ শেষ করতে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই আবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মোংলা ইপিজেডের একটি কারখানা ভবনের ভিত্তির প্রায় ২২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের চুক্তিও বাতিল করা হয়। পরে নতুন দরপত্র ডেকে আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আবার কাজ দেওয়া হয়েছে।
বেপজার হিসাবে, উত্তরা ও মোংলা ইপিজেডের ওই দুটি ভবনের বাকি কাজ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, দুটি ভবনের অবশিষ্ট কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে ঠিকাদারদের প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
এ অবস্থায় ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ আপাতত আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে বেপজা।
তবে নতুন মেয়াদের মধ্যেও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ নিজেই বাকি কাজ শেষ করতে প্রায় এক বছর লাগার কথা জানিয়েছে, অথচ সময় চাওয়া হয়েছে মাত্র ছয় মাস। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির মেয়াদ আবার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।