সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীদের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। আবেদন গ্রহণের প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে মেয়াদি আমানতের পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য এক্সিটের আবেদন এসেছে ২৪৫ কোটি টাকার।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন করা আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গত বছর ঘোষিত আমানত ফেরত দেওয়ার স্কিমে সংশোধনী এনে ব্যক্তি আমানতকারীদের পুরো অর্থ ফেরতের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে ২০২২ সাল থেকে কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সমস্যায় পড়ে। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুর্দশাগ্রস্ত এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
নতুন ব্যাংকটির মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা মূলধনের মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে, এসব ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে।
ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হচ্ছিল আমানত
বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ডিসেম্বরে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য একটি স্কিম ঘোষণা করে। ওই স্কিম অনুযায়ী, সব ধরনের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের আমানতকারীদের আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে প্রথমে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর প্রতি তিন মাসে ১ লাখ টাকা করে ফেরত দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়।
এ ছাড়া মেয়াদি আমানতের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যক্তি আমানতকারীদের পুরো অর্থ ফেরতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পুরো মেয়াদি আমানত তুললে মিলবে না মুনাফা
তবে মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো গ্রাহক মেয়াদি আমানতের পুরো অর্থ একবারে তুলে নিতে চাইলে তাকে শুধু মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ওই আমানতের বিপরীতে মুনাফা দাবি করার সুযোগও থাকবে না।
প্রথম দিনেই বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আবেদনকে ব্যাংকটির প্রতি আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট হবে।