মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করে সম্মানি দেবে সরকার।
একটি মসজিদের তিনজন কর্মী মিলিয়ে মাসে ১০ হাজার টাকা এবং অন্য প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের দুজন কর্মী মিলিয়ে ৮ হাজার টাকা পাবেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ জন্য ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ জারি করেছে।
রোববার প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নীতিমালাটি ৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা পাবেন।
মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন।
মন্দিরের সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজক মাসে ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।
কোনো প্রতিষ্ঠানে একই পদে একাধিক ব্যক্তি থাকলে তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে সম্মানির জন্য বাছাই করবে যাচাই ও অনুমোদন কমিটি।
মাসিক সম্মানির পাশাপাশি মসজিদের কর্মীরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন।
মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার কর্মীরা যথাক্রমে দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে এককালীন ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বা বাজেট বরাদ্দ বিবেচনায় সরকার সম্মানির অঙ্ক ও মাসিক হার পরিবর্তন করতে পারবে।
প্রতি মাসের সম্মানি পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসাব বা ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে সময়মতো অর্থ না পৌঁছালে পরে বকেয়া হিসেবে তা দেওয়া হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সেল প্রথম পর্যায়ে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করবে।
এ কাজে অর্থ বিভাগের আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে এবং নির্বাচিত প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে।
সম্মানি পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের দুই কপি ফটোকপি, দুই কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির দেওয়া নিয়োগপত্র জমা দিতে হবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আবেদন যাচাই ও অনুমোদন করবে।
কমিটি আবেদনকারীর তথ্য আগের ডিজিটাল ডেটাবেজ ও বেনিফিশিয়ারি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।
যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আয় কম এবং যেগুলো প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকায় অবস্থিত, সেগুলো বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
জুমার নামাজ আদায় করা হয় এমন মসজিদ এ সুবিধার আওতায় আসবে, তবে হাওর, পার্বত্য ও চরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা যাবে।
মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জা ও অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিয়মিত পূজা, অর্চনা বা উপাসনা চালু থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব জমিতে স্থাপিত হতে হবে।
তবে হাওর, পার্বত্য ও চরাঞ্চলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জমিসংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা যাবে।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, ট্রাস্ট বা বিদেশি সংস্থার পরিচালনাধীন কিংবা নিয়মিত অনুদান পাওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ সম্মানি পাবেন না। অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি উৎস কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া ব্যক্তিরাও এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
নৈতিক স্খলনজনিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত, রাষ্ট্রবিরোধী বা অপরাধমূলক কাজে যুক্ত এবং রাজনৈতিক দলের সদস্য ব্যক্তিরা সম্মানির জন্য যোগ্য হবেন না। তথ্য জালিয়াতি করলে বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না হয়েও তালিকাভুক্ত হলে সম্মানি বাতিল করা হবে।
কোনো সুবিধাভোগী মারা গেলে, চাকরি ছাড়লে বা প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত হলে তাঁর সম্মানি বন্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সংশ্লিষ্ট যাচাই ও অনুমোদন কমিটির কাছে তথ্য দিতে হবে।
প্রতি তিন মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে অন্তত ১০ শতাংশ নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।
পরিদর্শনে সুবিধাভোগীর উপস্থিতি ও তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
কেউ সম্মানি থেকে বাদ পড়লে বা অনিয়মের শিকার হলে ডাকযোগে, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থায় অথবা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন এবং কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দল প্রতি ছয় মাসে কর্মসূচির হিসাব পরীক্ষা করবে এবং বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতিবছর সরকারি অর্থের নিরীক্ষা করবেন।
মন্ত্রণালয় প্রতি অর্থবছর শেষে কর্মসূচির প্রভাব, অগ্রগতি ও অর্থ ব্যয়ের তথ্য নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, এ সম্মানিকে সরকারি বেতন বা ভাতা হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং এর ভিত্তিতে কেউ স্থায়ী নিয়োগের দাবি করতে পারবেন না।
মিথ্যা তথ্য বা জাল নথি দিয়ে সম্মানি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়া হবে।