বিনিয়োগ সুরক্ষায় বাংলাদেশ-হংকং আইপিপিএ চুক্তি

বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন এগ্রিমেন্ট (আইপিপিএ)’ স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক বিনিয়োগ ও পুঁজির সুরক্ষা আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিটের উদ্বোধনী পর্বে বুধবার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। হংকং সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক সেক্রেটারি আলজের্নন ইএই।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ এবং পুঁজির সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হংকং। দেশটি বাংলাদেশের সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগ উৎস হিসেবে অবস্থান করছে। নতুন আইপিপিএ চুক্তির ফলে বাংলাদেশে হংকংয়ের বিনিয়োগ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পসহ দেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে হংকং থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই হংকং থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ১২২ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ।

নতুন এই চুক্তি দুই দেশের বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে হংকংয়ের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পথ সুগম করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ট্যাগ: আইপিপিএ বিদেশি বিনিয়োগ বিনিয়োগ