ছাতক সিমেন্ট প্রকল্পে ব্যয় দ্বিগুণ, বিলম্বে ক্ষতি সাড়ে ২২ কোটি টাকা

ছাতক সিমেন্ট কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মেয়াদ বেড়েছে ২১৬ শতাংশ। বিলম্বে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির পাশাপাশি অডিটে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে।

ছাতক সিমেন্ট কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

প্রকল্পটির ব্যয় মূল অনুমোদনের তুলনায় ১১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মেয়াদ ২১৬ শতাংশ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি।

এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আর না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার সুপারিশ করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বা আইএমইডি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসি সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

‘ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয় ১ হাজার ৪১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হলেও ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এর আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

মূল অনুমোদনে প্রকল্পের ব্যয় ছিল প্রায় ৬৬৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের জন্য তিন বছর সময় রাখা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং সর্বশেষ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইএমইডির কর্মকর্তারা গত ৫ মে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে আরেকটি পরিদর্শন করা হয়েছিল।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকালীন সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং সৌদি বিনিয়োগ না আসায় আমদানিনির্ভর যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ বিলম্বিত হয়েছে।

কারখানায় গ্যাস সরবরাহের জন্য সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্তও প্রকল্পের সময় বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো ব্যক্তিগত কারণ বা অবহেলায় বিলম্ব হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারায় প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া বরাদ্দ করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে আবার ছাড় করানোর কারণে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্ভাব্য সুদ আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাণিজ্যিক অডিটে প্রকল্পে ৩০টি আপত্তি ওঠে এবং সময়মতো বিল পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়।

২০২৩–২৪ অর্থবছরের অডিটে সাতটি আপত্তিতে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএমইডি অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

প্রকল্পের নতুন কাজগুলো অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি মিডিয়াম ভোল্টেজ স্টেশন, রোপওয়ে ও ফাউন্ডেশন নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আইএমইডি বলেছে, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে নিয়মিতভাবে অগ্রগতি প্রতিবেদন অনলাইনে জমা দিতে হবে।

ট্যাগ: অডিট আপত্তি আইএমইডি উন্নয়ন প্রকল্প ছাতক সিমেন্ট প্রকল্প ব্যয় বিসিআইসি শিল্প মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জ

সম্পর্কিত