১২ জেলার বদলে আট স্থানে আইটি পার্ক: ব্যয় বাড়ছে ৪৮ শতাংশ

চার জেলা বাদ দিয়েও ব্যয় ২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব

আইটি ও হাই-টেক পার্ক প্রকল্প

নয় বছরে ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া জেলা পর্যায়ের আইটি ও হাই-টেক পার্ক প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও আড়াই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এবং মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হলেও এখন দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে তা ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে চায় বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

‘জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব নি সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮৪৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয় ৮৮৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে বৈদেশিক সহায়তা কমলেও সরকারি অর্থায়ন বড় আকারে বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।

প্রথম সংশোধিত প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ছিল ৩০২ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা দ্বিতীয় সংশোধনে ৯৮৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ৩২৬ দশমিক ১১ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রকল্প সহায়তা ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা থেকে ১০১ কোটি ২৩ লাখ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় নামানোর প্রস্তাব রয়েছে।

ভারতের দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় শুরুতে ১২ জেলায় আইটি ও হাই-টেক পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও সিলেটকে প্রকল্প এলাকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফলে এখন আটটি স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও সিলেটের নির্মাণকাজ প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় পর্যালোচনা সভায় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক এ সিদ্ধান্তে সম্মতি জানায়।

নাটোরে সাততলা ভবনের বদলে চারতলা ভবন নির্মাণ এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ আবার শুরু করার সিদ্ধান্তও সংশোধনীতে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

এ সময় পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৪৪ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ।

অর্থাৎ নির্ধারিত সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি ছিল।

বাস্তবায়নকারী সংস্থার দাবি, আটটি স্থানের মধ্যে সর্বশেষ স্থাপনার নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের নভেম্বরে শেষ হতে পারে।

এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

দ্বিতীয় সংশোধনীতে ভবন নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, ভূমি অধিগ্রহণ ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে অনাবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে।

এ খাতে অনুমোদিত ১ হাজার ৬৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা থেকে ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ২ হাজার ৪০৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

শুধু এ খাতেই ব্যয় বাড়বে প্রায় ৭৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ভূমি উন্নয়নে বরাদ্দ ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৯ কোটি টাকা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়ে ৪ কোটি টাকা থেকে ৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং আবাসিক ভবন নির্মাণে ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা থেকে ৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ৩০ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা এবং পেট্রোল, তেল ও লুব্রিকেন্ট খাতে ১ কোটি টাকা থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল আইটি ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের জন্য অবকাঠামো তৈরি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।

তবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা বাদ দেওয়া, নির্ধারিত মেয়াদে অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি থাকা এবং বিদেশি অর্থায়ন কমার বিপরীতে সরকারি ব্যয় তিন গুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ট্যাগ: আইটি পার্ক আইসিটি বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প ব্যয় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ভারতীয় ঋণ হাই-টেক পার্ক

সম্পর্কিত