বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইয়ের আওতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য, সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও চীন।
চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন বা এনডিআরসি ‘কো-অপারেশন প্ল্যান অন জয়েন্টলি প্রমোটিং দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না’ শিরোনামে পরিকল্পনাটির একটি খসড়া বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।
খসড়াটির বিষয়ে মতামত দিতে গত ৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পর পরিকল্পনা বিভাগের সমন্বয় শাখা গত ১৩ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশনের ছয়টি বিভাগ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে খসড়াটি পাঠিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলে।
মতামত চাওয়া বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, কৃষি-পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ, শিল্প ও শক্তি বিভাগ, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এবং কার্যক্রম বিভাগ।
২০১৬ সালের অক্টোবরে বিআরআইয়ের আওতায় সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা পরিকল্পনার খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে।
খসড়ায় শান্তি ও সহযোগিতা, উন্মুক্ততা ও অন্তর্ভুক্তি, পারস্পরিক শিক্ষা এবং উভয় পক্ষের লাভকে সহযোগিতার মূলনীতি হিসেবে রাখা হয়েছে।
দুই দেশ নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরস্পরের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন খাতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এগিয়ে নেবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় উন্মুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও স্বচ্ছ উন্নয়নের ধারণা অনুসরণ এবং উচ্চমান, জনকল্যাণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য, সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং শিক্ষাকে সম্ভাব্য সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব খাতে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম, বাস্তবায়ন ব্যবস্থা ও সহায়ক নীতি নির্ধারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর একটি তালিকা পরিকল্পনার সংযোজনীতে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের সম্মতিতে এ তালিকা পরে হালনাগাদ বা সংশোধন করা যাবে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবে চীনের এনডিআরসি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
খসড়ায় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার শর্ত দিয়ে বলা হয়েছে, তথ্য প্রদানকারী পক্ষের অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা বা এর আওতায় সহযোগিতাসংক্রান্ত তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
পরিকল্পনার কোনো ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ বা অস্পষ্টতা দেখা দিলে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করবে।
স্বাক্ষরের দিন থেকে পরিকল্পনাটি কার্যকর হবে এবং কোনো দেশ এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকবে।
তবে যেকোনো পক্ষ ছয় মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে পরিকল্পনাটি বাতিল করতে পারবে, যদিও এমন সিদ্ধান্তের কারণে আগে থেকে চলমান কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
খসড়ায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সহযোগিতা পরিকল্পনাটি কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাংলাদেশ বা চীনের জন্য কোনো আইনগত অধিকার বা বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না।
পর্যালোচনার জন্য পাঠানো খসড়ায় এখনো স্বাক্ষরের স্থান, তারিখ ও দুই দেশের স্বাক্ষরকারীর পরিচয় চূড়ান্ত করা হয়নি।
এতে সহযোগিতার সম্ভাব্য খাতগুলো উল্লেখ করা হলেও কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প, প্রকল্প ব্যয়, অর্থায়নের পরিমাণ বা বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়নি।