প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে সঞ্চয়, পেনশন ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যুক্ত করতে ১০১ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার।
‘বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের কার্যকর ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি সরকারের অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকা বা ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর খরচ কমানো, আনুষ্ঠানিক পথে প্রবাসী আয় বাড়ানো এবং এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই হবে এর প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমানে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ পারিবারিক ভোগ, বাড়ি নির্মাণ ও জমি কেনার মতো খাতে ব্যয় হয়।
অন্যদিকে প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য সহজ, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগসেবা সীমিত বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয়, পেনশন এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রবাসী আয়ভিত্তিক আর্থিক সেবা তৈরিতে সহায়তা করা হবে।
প্রবাসী আয়কে পুঁজিবাজারে যুক্ত করার সুযোগ তৈরির বিষয়টিও প্রকল্প প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।
তবে পুঁজিবাজারের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রবাসীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ বিনিয়োগব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক জ্ঞান বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রচার এবং পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সঞ্চয়, আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা, আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্পর্কে তাঁদের ধারণা বাড়ানো হবে।
বিদেশে থাকা কর্মীরা যেন সহজে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ পাঠানো এবং দেশে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর ব্যয় কমানো।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবাসী আয় পাঠানোর গড় ব্যয় ৩ শতাংশের নিচে নামানোর কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৫ শতাংশের বেশি ব্যয় হয়—এমন অর্থ পাঠানোর পথগুলো বিলুপ্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা সহজ, দ্রুত ও কম খরচের করা গেলে অবৈধ পথে অর্থ আসার প্রবণতা কমবে।
এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তাও শক্তিশালী হতে পারে।
প্রকল্পটির সঙ্গে সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতের কর্মপরিকল্পনার যোগসূত্র দেখানো হয়েছে।
তবে নতুন আর্থিক সেবা চালু করলেই প্রবাসীদের অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
সেবার নিরাপত্তা, লাভ, স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতার পাশাপাশি বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রবাসীদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রবাসীদের বড় অংশ স্বল্প আয়ের হওয়ায় তাঁদের আয়, সঞ্চয়ের সামর্থ্য ও ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক সেবাগুলো তৈরি করতে হবে।