কৃষি উচ্চশিক্ষার ২,২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ১৪৪ কোটি টাকা পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নেওয়া ২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ১৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরামর্শক ব্যয়, কার্যালয় ভাড়া ও গাড়ি কেনার প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে জলবায়ু সহনশীল কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া প্রায় ২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে ১৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরামর্শক ব্যয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন থাকার পরও প্রকল্প কার্যালয়ের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ভাড়া এবং অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশ ছাড়া দুটি উপযোগী গাড়ি কেনার জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা রাখার বিষয়েও আপত্তি উঠেছে।

‘কৃষি উচ্চশিক্ষা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ নামে এ উদ্যোগের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ২৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩০০ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

বাকি ১ হাজার ৯৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১ হাজার ৩১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল থেকে প্রায় ৬৮৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ১৪৩ কোটি ৯১ লাখ ৯ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এটি মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।

কমিশন বলেছে, পরামর্শক সেবা, জনবল, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের ভিত্তি ও যৌক্তিকতা আরও স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।

একই সঙ্গে পরামর্শক সেবার বিস্তারিত কার্যপরিধিও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে যুক্ত করতে বলা হয়েছে।

প্রকল্পের বিভিন্ন ক্রয় ব্যয়ের প্রাক্কলনও নতুন করে যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাজারদর যাচাই করে প্রয়োজনীয় কমিটির মাধ্যমে দর নির্ধারণ এবং স্পষ্ট ক্রয়কৌশল তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণেও ঘাটতি পেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

নথিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পে বর্তমান মূল্যমান, অভ্যন্তরীণ আয়হার এবং অন্যান্য কিছু হিসাব দেওয়া হলেও সুবিধা-ব্যয় অনুপাতের হিসাব দেওয়া হয়নি।

এ কারণে আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত করতে বলা হয়েছে।

বাউ ক্যাম্পাসে ভবন থাকার পরও কার্যালয় ভাড়ার জন্য ১৫০ লাখ টাকা রাখার বিষয়টিও কমিশনের নজরে এসেছে।

নথিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন আলাদা কার্যালয় ভাড়া প্রয়োজন, তা সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া প্রকল্পে দুটি উপযোগী গাড়ি কেনার জন্য ১৮০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

কিন্তু অর্থ বিভাগের জনবল কমিটি এ ধরনের গাড়ির সুপারিশ করেনি বলে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

ফলে এ ব্যয় আর্থিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য কৃষি উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম আধুনিক করা এবং শ্রমবাজার ও নতুন প্রযুক্তির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা।

এতে নতুন ডিগ্রি কার্যক্রম, ডিজিটাল শিক্ষা ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা, তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

বাউকে কৃষি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও গবেষণা অবকাঠামোসহ একটি বিশেষ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলারও প্রস্তাব রয়েছে।

প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এসব অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা কীভাবে চালু রাখা হবে, সে বিষয়েও একটি স্পষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে যুক্ত করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

ট্যাগ: উন্নয়ন প্রকল্প কৃষি শিক্ষা পরামর্শক ব্যয় পরিকল্পনা কমিশন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বৈদেশিক ঋণ

সম্পর্কিত