দেশেই মেট্রোরেল কোচ কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব

এমআরটি লাইন–৬-এর ডিপোতে এসকেডি পদ্ধতিতে মেট্রোরেল কোচ সংযোজন কারখানা স্থাপনের চিন্তা করছে সরকার। তবে কারখানার ব্যয়, অর্থায়ন, উৎপাদনক্ষমতা ও বাস্তবায়নপদ্ধতি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

মেট্রোরেলের কোচ সংযোজন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে দেশেই একটি কারখানা স্থাপন করতে চায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

এ জন্য এমআরটি লাইন–৬-এর ডিপোতে সেমি নকড ডাউন বা এসকেডি পদ্ধতির একটি মেট্রোরেল কোচ সংযোজন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা ও ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন–২ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা পিডিপিপিতে এ সুপারিশ রয়েছে।

এসকেডি পদ্ধতিতে কোচের প্রধান অংশগুলো বিদেশে তৈরি করে পৃথক অবস্থায় বাংলাদেশে আনা হবে এবং স্থানীয় কারখানায় সেগুলো সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ কোচ তৈরি করা হবে।

এটি শুরু থেকেই দেশে মেট্রোরেল কোচের সব যন্ত্রাংশ উৎপাদনের পরিকল্পনা নয়।

তবে সংযোজন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় কারিগরি দক্ষতা ও অবকাঠামো গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে দেশে কোচ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারখানাটি স্থাপন করা গেলে ভবিষ্যতের মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর জন্য কোচ সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশে সংযোজন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কোচের মেরামত, যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল তৈরিতেও সুবিধা হতে পারে।

তবে কারখানাটির উৎপাদনক্ষমতা, জমির প্রয়োজন, নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়নকাল সম্পর্কে পিডিপিপিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

কারখানাটি এমআরটি লাইন–২ প্রকল্পের সরাসরি অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে, নাকি আলাদা প্রকল্প নেওয়া হবে—সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।

কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং দেশে কতটুকু মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি।

ফলে আমদানি করা কোচের তুলনায় দেশে সংযোজন করলে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা সাশ্রয় হবে, তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

কারখানাটি নির্মাণের আগে ভবিষ্যতে কোচের চাহিদা, প্রযুক্তি হস্তান্তরের শর্ত, দক্ষ জনবল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় যাচাই করতে হবে।

এমআরটি লাইন–২-এর পিডিপিপিতে একই ধরনের কোচকে একাধিক মেট্রোরেল লাইনে ব্যবহারযোগ্য রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন লাইনের কোচ ও কারিগরি মানে সামঞ্জস্য থাকলে প্রস্তাবিত সংযোজন কারখানাটি ভবিষ্যতে একাধিক মেট্রোরেলের চাহিদা পূরণে কাজে লাগানো যেতে পারে।

তবে কারখানা স্থাপনের বিষয়টি এখনো সুপারিশের পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও সরকারের অনুমোদনের আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগ: এমআরটি লাইন-২ এমআরটি লাইন–৬ কোচ সংযোজন কারখানা ডিএমটিসিএল প্রযুক্তি হস্তান্তর মেট্রোরেল মেট্রোরেল কোচ

সম্পর্কিত