একনেকে উঠছে ২,৩৯৫ কোটি টাকার দুই পল্লী সড়ক প্রকল্প

রাজশাহী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২টি জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উঠছে।

রাজশাহী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২টি জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে।

প্রকল্প দুটির মাধ্যমে পাঁচটি জেলার ১৬টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের চার জেলার আরও ১৬টি সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

দুটি প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, ‘রাজশাহী সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে।

প্রকল্পটির আওতায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি জেলা মহাসড়কের মোট ১৯৯ দশমিক ৯১৬ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন করা হবে।

প্রস্তাবিত কাজের মধ্যে রয়েছে সড়ক বাঁধ নির্মাণ, নতুন পেভমেন্ট তৈরি, বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালী করা, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ।

এ ছাড়া দুটি সেতু, ১৭টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ড্রেন, রক্ষাপ্রদ কাজ ও সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৬ হাজার ৮১৩টি যানবাহন চলাচল করে এবং এই সংখ্যা প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

সড়কগুলো উন্নত হলে যানবাহন পরিচালন ব্যয় ও যাতায়াতের সময় কমবে বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ ফেরত হার বা ইআইআরআর ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ১ দশমিক ৫৬ হিসাব করা হয়েছে।

তবে প্রকল্পটি সরাসরি আয় সৃষ্টি করবে না বলে আর্থিক হিসাবে নিট বর্তমান মূল্য ঋণাত্মক ৬৬৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং সুবিধা-ব্যয় অনুপাত শূন্য দেখানো হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা মহাসড়কগুলো পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্ত করার মাধ্যমে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন এবং তুলনামূলক ব্যয়সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ‘চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১৬টি সড়কের প্রায় ২৪০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন করা হবে।

প্রস্তাবিত কাজের মধ্যে মাটির কাজ, পেভমেন্ট নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ, সেতু-কালভার্ট, ড্রেন এবং সড়ক নিরাপত্তামূলক অবকাঠামো রয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ১ দশমিক ৫১ এবং ইআইআরআর ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ হিসাব করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আর্থিক নিট বর্তমান মূল্যও ঋণাত্মক ১ হাজার ৩২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পটি পর্যালোচনার সময় একই সড়কে অন্য কোনো চলমান বা প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করা এবং সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণের পরিমাণ ও ব্যয় পুনরায় যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় প্রকল্প দুটির জন্য প্রতিবছর প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে কমিশন।

ট্যাগ: উন্নয়ন প্রকল্প একনেক চট্টগ্রাম সড়ক জোন জেলা মহাসড়ক রাজশাহী সড়ক জোন সড়ক অবকাঠামো সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর

সম্পর্কিত