তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এর মধ্যে চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটের সম্মিলিত ব্যয় মূল অনুমোদনের তুলনায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা বা ১১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অনুমোদিত তিন মেট্রোরেল প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি ২ লাখ টাকা।
চলমান দুই প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণের বেশি
এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটের মূল ব্যয় ছিল মোট ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
সংশোধনের পর প্রকল্প দুটির সম্মিলিত ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সভার নথিতে প্রথমে ১৬টি প্রকল্প ছিল।
পরে বড় অঙ্কের ব্যয় বৃদ্ধির মেট্রোরেল প্রকল্প দুটি ১৭ ও ১৮ নম্বর প্রস্তাব হিসেবে তালিকায় যুক্ত করা হয়।
গাবতলী–দাশেরকান্দি মেট্রোরেল
নতুন এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুটের আওতায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)।
অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিদেশি ঋণ থেকে মেটানো হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।
প্রকল্পটির কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬৪৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
লাইন-১-এর ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৬৪ শতাংশ
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করেছে একনেক।
প্রকল্পটির ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এতে ব্যয় বেড়েছে ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
সরকারি অর্থায়ন বেড়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ বেড়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি এখন ২০৩৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষ করোনা মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণের জটিলতাকে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
লাইন-৫ উত্তরের ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৮৭ শতাংশ
হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে।
প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
সংশোধনের পর সরকারি অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত অংশ উড়ালপথে এবং আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত অংশ পাতালপথে নির্মিত হবে।
প্রকল্পটি ২০২৮ সালে চালুর লক্ষ্য থাকলেও এখন ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা অনুমোদিত তিন মেট্রোরেলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ডিএমটিসিএল আগস্টে চলমান দুই প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
গত ৩০ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভার পর নির্মাণ ও সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাত থেকে ৯ হাজার ৭৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কমিয়ে সর্বশেষ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।