নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ঘর নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলারের সহজ শর্তের ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে আয় করেন এবং ব্যাংক থেকে গৃহঋণ পান না, এমন পরিবারগুলোকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। এ ঋণের জন্য জামানত লাগবে না।
এডিবির লক্ষ্য, ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেওয়া। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার ঋণগ্রহীতা হবেন নারী। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতাকে প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের ১০ কোটি ডলার ঋণের মধ্যে ৪ কোটি ডলার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত। এর বাইরে কারিগরি সহায়তায় আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হবে।
এডিবি বলছে, অনেক পরিবারের আয় নিয়মিত হলেও তা আনুষ্ঠানিক চাকরি বা ব্যবসার কাগজপত্রে প্রতিফলিত হয় না। ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণ, বিশেষ করে গৃহঋণ পাওয়া তাদের জন্য কঠিন। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অর্থায়ন করে এই ঘাটতি কমাতে চায় সংস্থাটি।
ঋণের টাকায় নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ঘর মেরামত ও উন্নয়ন করা যাবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও প্রচণ্ড গরমের মতো ঝুঁকি বিবেচনায় ঘরের নকশা ও নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা জানিয়েছে এডিবি।
নারীদের আবাসনের নিরাপত্তা বাড়াতেও প্রকল্পে কিছু উদ্যোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক বিষয়, জমির কাগজপত্র ও আবাসন অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং ঋণগ্রহীতার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা।
প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য পিকেএসএফ ও অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। দুর্যোগের ঝুঁকি যাচাই, ঋণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা দেবে এডিবি।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, মর্যাদা, সুযোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য নিরাপদ আবাসন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ঘরে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে তা দারিদ্র্য কমানো ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিবারপ্রতি ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, কিস্তির মেয়াদ কিংবা কোন কোন এলাকায় আগে ঋণ দেওয়া হবে, তা জানানো হয়নি। এসব শর্তের ওপরই নির্ভর করবে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ঋণটি কতটা সাশ্রয়ী হবে।