রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার হবে। নতুন এসব লোকোমোটিভ যুক্ত হলে ট্রেন পরিচালনার দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়ার পাশাপাশি পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বিদেশি ঋণ চার হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন এক হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত।
রেলওয়ের জন্য ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা
রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।
নতুন লোকোমোটিভগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে ট্রেন পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে এবং পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের পরিচালনায় গতি ও সময়ানুবর্তিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অনুমোদন পেয়েছে আরও বড় কয়েকটি প্রকল্প
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এর পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা আসবে। প্রকল্পটির কাজ ২০২৯ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি টাকা, পঞ্চগড়ের ভজনপুর-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৪ কোটি টাকা এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রকল্পটির মেয়াদ চতুর্থবারের মতো বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা মেরামত করে দিতে হবে। প্রকল্পে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।