দেশের বিভিন্ন সড়কে জরাজীর্ণ বেইলি ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপনের একটি প্রকল্পের মেয়াদ মূল পরিকল্পনার তুলনায় সাড়ে চার বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়)’ প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নের সময় ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৮৬১ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ২৭ কোটি ৭৮ লাখ ২ হাজার টাকা বা ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কমিয়ে ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পুরো অর্থ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।
ব্যয় না বাড়িয়ে প্রথমে মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এবং পরে আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
এখন প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপিতে আরও দুই বছর সময় চাওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি বা পিইসি গত ২২ এপ্রিল সংশোধনী প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে।
পরিকল্পনামন্ত্রী গত ৭ আগস্ট সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন করেন বলে পরিকল্পনা কমিশনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক অগ্রগতি ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় সওজের নয়টি সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়কে থাকা জরাজীর্ণ বেইলি সেতু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
পুরোনো সেতুগুলো সরিয়ে নিরাপদ ও টেকসই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচলের ঝুঁকি ও সময় কমানো প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ দশমিক ৭২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, প্রায় ১৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং প্রায় ১২ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হবে।
এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, সেতুর সংযোগ সড়ক, মাটি ও নদীশাসনকাজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি গাজীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও রংপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংশোধনের কারণ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, কয়েকটি সেতুর নকশা ও নির্মাণকাজে পরিবর্তন, সংযোগ সড়কের কাজ বৃদ্ধি এবং নতুন দরতফসিল অনুযায়ী কয়েকটি কাজের ব্যয় সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
সংশোধনীতে কিছু সেতু বাদ দেওয়া এবং প্রয়োজন ও নকশার ভিত্তিতে কয়েকটির দৈর্ঘ্য পরিবর্তনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ কয়েকটি খাতে ব্যয় বাড়লেও সেতুর ধরন ও নকশা পরিবর্তন এবং কাজের পরিমাণ সমন্বয়ের কারণে প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় কমেছে।