বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়াতে দুইটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলা নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ভবন তৈরির আগে বর্তমান ভবন সংস্কার, সম্প্রসারণ বা পুনর্বিন্যাস করে প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ জুন পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রকল্পটির ওপর পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রধান মো. কামাল আক্তার হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জানান, প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইনস্টিটিউটকে উন্নীত করা, জ্বালানি খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি, উন্নত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ৫২৯ দশমিক ৫৮ বর্গমিটার জায়গায় দুইটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটির মোট আয়তন হবে প্রায় পাঁচ হাজার ৯১৩ দশমিক ১২ বর্গমিটার।
প্রস্তাবিত ভবনে জ্বালানি খাতের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য তিনটি আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বছরে প্রায় ৫০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সভায় পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধিরা নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা ও উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রকল্প এলাকার সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রস্তাবিত দুইটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলা ভবন নির্মাণের বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
এ কাজ পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে করতে বলা হয়েছে।
নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে বর্তমানে থাকা ভবন প্রয়োজনীয় সংস্কার, সম্প্রসারণ অথবা পুনর্বিন্যাস করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব কি না, সেটিও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প এলাকা সরেজমিন দেখে প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় বলা হয়, প্রকল্পের ওপর আগে অনুষ্ঠিত যাচাই কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সেসব সিদ্ধান্তের আলোকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে যুক্ত করতে হবে।
প্রস্তাবিত ভবনের কাঠামোগত নকশা, বিস্তারিত ব্যয় প্রাক্কলন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি নথি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রস্তুত করে প্রকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।
প্রকল্পে রাজস্ব ও মূলধন ব্যয়ের প্রতিটি খাতের বিস্তারিত ব্যয় বিভাজনও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে দিতে হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের কেনাকাটা পরিকল্পনায় অর্থ বিভাগের সর্বশেষ জারি করা আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী ক্রয় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রকল্পটির সামগ্রিক লক্ষ্য বর্তমান সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়েও সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পরিসর বাড়ানোর কথা বলা হলেও নথিতে প্রশিক্ষণের বর্তমান সক্ষমতা, পরীক্ষাগারগুলোর ব্যবহার পরিকল্পনা এবং নতুন ভবন নির্মাণের বিকল্পগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ স্পষ্ট নয়।
পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরেজমিন মূল্যায়ন এবং বিদ্যমান ভবন ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরই নতুন বহুতল ভবনের যৌক্তিকতা নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া এর অন্যতম দায়িত্ব।