বিএনপি সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প হতে যাচ্ছে এমআরটি লাইন–৫ দক্ষিণ

৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার গাবতলী–দাশেরকান্দি মেট্রোরেল প্রকল্প উঠছে ১৬ সেপ্টেম্বরের একনেক সভায়

বিএনপি সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প হচ্ছে এমআরটি লাইন–৫ দক্ষি

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেতে যাচ্ছে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন–৫-এর দক্ষিণ রুট। একই সঙ্গে এটি হবে বর্তমান সরকারের অনুমোদন পাওয়া প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প।

৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্পটি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে প্রকল্পটির পরিকল্পনা, নকশা ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল আগের সরকারের সময়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এর ব্যয় পর্যালোচনা করা হয়।

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেলটির দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার থাকবে মাটির নিচে। আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে উড়ালপথ।

পুরো রুটে ১৫টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি পাতাল এবং চারটি উড়াল স্টেশন।

গাবতলী থেকে শুরু হয়ে মেট্রোরেলটি টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দিতে পৌঁছাবে।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যেতে প্রায় ২৮ মিনিট সময় লাগবে। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শুরুতে ছয়টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচের ১৯টি ট্রেন এই রুটে চলবে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

ডিএমটিসিএলের হিসাবে, মেট্রোরেলটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ)।

এডিবি সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির সঙ্গে মিল রেখে ধাপে ধাপে ঋণের অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় কয়েক দফায় কমানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে এর ব্যয় ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল।

বর্তমান প্রস্তাবে সেই ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবের তুলনায় ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা প্রায় ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

ডিএমটিসিএলের ২ আগস্টের চিঠি অনুযায়ী, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে গত ১৬ জুলাই প্রকল্পটি নিয়ে পর্যালোচনা সভা হয়।

সভার সিদ্ধান্তে তখনকার ৪৭ হাজার ৬৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রস্তাব আরও কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা করা হয়। সর্বশেষ পর্যালোচনায় ব্যয় কমেছে ২ হাজার ১৩১ কোটি ৪ লাখ টাকা বা প্রায় ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এরপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি নতুন করে সাজিয়ে অনুমোদনের পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।

বিদেশি ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ, জমি অধিগ্রহণ, যানবাহন কেনা, পরামর্শক, সম্মানী এবং প্রশাসনিক খাতের ব্যয় পর্যালোচনা করে এই অর্থ কমানো হয়েছে।

বিশেষ করে ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর পরিশোধযোগ্য সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্পের ব্যয় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ পরে অর্থ বিভাগ নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করবে।

প্রকল্পের জন্য জমির প্রয়োজন ২৩ দশমিক ০৯ হেক্টর থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ১০৪ হেক্টর করা হয়েছে। এতে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা কমবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

তারপরও প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

এডিবির অর্থায়নে নেওয়া কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মৌলিক ও বিস্তারিত নকশা, দরপত্রে সহায়তা, জমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প হিসেবে এমআরটি লাইন–৫ দক্ষিণের অনুমোদন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে একনেকে অনুমোদনের পর অর্থায়ন চুক্তি, জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগ সময়মতো শেষ করাই হবে প্রকল্পটির বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগ: ইডিসিএফ একনেক এডিবি এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক গাবতলী–দাশেরকান্দি মেট্রোরেল ডিএমটিসিএল ঢাকা যানজট পাতাল মেট্রোরেল বিএনপি সরকার মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল

সম্পর্কিত