প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ সময় পার হলেও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আটটি ছয়তলা কারখানা ভবনের মধ্যে মাত্র তিনটির নির্মাণ শেষ হয়েছে।
বাকি পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ শেষ করতে আরও দুই মাস এবং অন্য দুটির জন্য প্রায় এক বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্রকল্পটির মেয়াদ দ্বিতীয়বারের মতো মাত্র ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করেছে বেপজা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো বেপজার এক চিঠিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
‘বেপজার আওতাধীন ইপিজেডসমূহে ৮টি ছয়তলা কারখানা ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুমোদন করা হয়।
নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ৪৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকাল ছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল প্রকল্পটির মেয়াদ ব্যয় না বাড়িয়ে এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
বেপজার চিঠি অনুযায়ী, প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে ৮০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭০ শতাংশ হলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৯০ দশমিক ২১ শতাংশ ইতোমধ্যে পার হয়েছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় ভবনগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পে ভবন নির্মাণের নয়টি এবং পণ্য কেনার দুটি মিলিয়ে মোট ১১টি প্যাকেজ রয়েছে।
এর মধ্যে তিনটি ভবন নির্মাণ এবং দুটি পণ্য কেনার প্যাকেজসহ মোট পাঁচটির কাজ শেষ হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনার কারণে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুটি কারখানা ভবন কেনার একটি প্যাকেজ এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে পাঁচটি প্যাকেজের কাজ চলছে এবং এগুলোর মধ্যে তিনটি ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।
বেপজার হিসাবে, এই তিন ভবনের বাকি কাজ শেষ করতে আনুমানিক আরও দুই মাস লাগবে।
অন্যদিকে, উত্তরার একটি কারখানা ভবনের ছয়তলার ছাদ নির্মাণসহ প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদার চুক্তি ভঙ্গ করায় চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের আগেই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।
মোংলা ইপিজেডের একটি কারখানা ভবনের ভিত্তি নির্মাণসহ মাত্র ২২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানেও ঠিকাদার চুক্তি ভঙ্গ করায় চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়েছে।
উত্তরা ও মোংলা ইপিজেডের এই দুটি ভবনের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন ঠিকাদারের প্রায় এক বছর প্রয়োজন হবে বলে বেপজা জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, এসব কাজের জন্য অনুমোদিত ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে না।
বেপজা দুই ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্পটির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ওই প্রস্তাব বিবেচনা করা যায়নি।