স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ক্রয় সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্পে মোট ব্যয়ের ৮২ শতাংশই রাখা হয়েছে পরামর্শক খাতে।
‘এলজিইডিতে ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এর মধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিভিত্তিক পরামর্শকের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
দুই ধরনের পরামর্শক সেবায় সম্মিলিত ব্যয় হবে ২৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৮২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রকল্পের আওতায় অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র ১২ লাখ টাকা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুমোদন পায়।
প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এলজিইডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পের রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ দশমিক ২৩ শতাংশ।
মূলধন ব্যয় হবে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং ভৌত ও মূল্য সমন্বয় খাতে রাখা হয়েছে আরও ৬০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
মূলধন ব্যয়ের মধ্যে ১০০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ১ কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং ২২টি ইন্টার্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া বোর্ড কেনায় ৮৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
আটটি কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সফটওয়্যার কেনায় ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, অফিস সরঞ্জামে ১৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং আসবাব কেনায় ৩০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের জন্য দুটি যানবাহন ব্যবহারে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
এ ছাড়া সেমিনারে ৩৫ লাখ টাকা, কর্মশালা আয়োজনে ৪ লাখ টাকা, বই ও সাময়িকী কেনায় ৩ লাখ টাকা, প্রকাশনায় ৫ লাখ টাকা এবং প্রচার ও বিজ্ঞাপনে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটির জন্য ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রাজস্ব খাতে প্রায় ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং মূলধন খাতে প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি এলজিইডির ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং টেকসই ক্রয় বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে।
তবে মোট বরাদ্দের চার-পঞ্চমাংশের বেশি পরামর্শকদের জন্য রাখায় প্রকল্পটির মাধ্যমে এলজিইডির নিজস্ব জনবলের দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কতটা স্থায়ীভাবে বাড়বে, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শকেই ২৮ কোটি
এলজিইডির ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ক্রয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পে পরামর্শক সেবায় রাখা হয়েছে ২৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা মোট ব্যয়ের ৮২ শতাংশ