৪,৪১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ড্রেজিংয়ের মাটি আবার নদীতে

আট বছরে কাজ ৬২ শতাংশ, মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব

সরকারি ব্যয়ে ৪ হাজার ৪০৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার প্রকল্পে খনন করা মাটি আবার নদীতেই এসে জমছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর খনন করা বিভিন্ন অংশে নতুন করে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পলি জমেছে।

পুনর্ভবায় পলি জমার হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তুলাই নদীতে ৭ থেকে ১০ শতাংশ।

ফলে নাব্যতা ধরে রাখতে একই স্থান আবার খননের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এদিকে প্রায় আট বছর ধরে চলা চার নদীর নাব্যতা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এ অবস্থায় প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।

প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪০৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা করা হয়।

দ্বিতীয় সংশোধনীতে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব না থাকলেও খননসহ বিভিন্ন কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পুনর্বিন্যাস করতে চায় বিআইডব্লিউটিএ।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

এরপর ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়া হয়।

এবার দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে মূল পরিকল্পনার চেয়ে চার বছর বেশি সময় নিয়ে প্রায় ১০ বছরে প্রকল্পটি শেষ হবে।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যা সংশোধিত ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

একই সময় পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

অর্থাৎ প্রায় আট বছর পার হওয়ার পরও প্রকল্পটির ৩৮ শতাংশের বেশি কাজ বাকি রয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবা নদীতে সারা বছর যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের উপযোগী নৌপথ তৈরি করা।

নদীর পানিপ্রবাহ বাড়িয়ে কৃষি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও সহায়তা করার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারের মাধ্যমে মূলধনী ও সংরক্ষণ খনন, বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে খনন, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং তিনটি রাবার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালনা কমিটির কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ২১টি লটে ৬৪টি ড্রেজার নিয়োজিত থাকার পরও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খননের অগ্রগতি ছিল ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেওয়া সাতটি লটে ১৯টি ড্রেজার নিয়োজিত ছিল।

তুলাই নদীর ৭০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হলেও সেখানে নাব্যতা ধরে রাখতে চারটি এক্সকাভেটর দিয়ে সংরক্ষণ খনন চালাতে হচ্ছে।

পুনর্ভবা নদীর ৭৮ কিলোমিটার খননে পাঁচটি লটে ২৫টি ড্রেজার নিয়োজিত ছিল এবং গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অগ্রগতি ছিল ৮৮ শতাংশ।

ধরলা নদীর মূলধনী খননের অগ্রগতি ছিল ৫৮ শতাংশ এবং সেখানে নয়টি লটে ১৩টি ড্রেজার কাজ করছিল।

ধরলা নদীতে রাবার বাঁধ নির্মাণের অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সভায় জানানো হয়, নদীগুলোর খনন করা অংশে আবার পলি জমায় পুনঃখননের প্রয়োজন হচ্ছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও ধরলায় নতুন করে পলি জমার হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় খননের সুফল কতটা টেকসই হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের জামালপুর থেকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশে স্থানীয় বাধার কারণে খননকাজ আটকে ছিল।

পুনর্বাসন, জমি এবং স্থানীয় প্রতিবন্ধকতার কারণে ওই অংশের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘অর্পিত কাজ’ হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

তবে কাজের পরিধি, ব্যয়, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও দায়িত্ব নির্ধারণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্মারক তখনো স্বাক্ষর হয়নি।

প্রকল্প পরিচালনা কমিটি বিআইডব্লিউটিএকে দ্রুত সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছে।

নদী খননে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকার দাবিও রয়েছে।

ক্ষতিপূরণ নিষ্পত্তি না হওয়ায় কয়েকটি স্থানে স্থানীয় বাধার মুখে খননকাজ ব্যাহত হয়েছে বলে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় সংশোধনীতে ঠিকাদারের মাধ্যমে মূলধনী ও সংরক্ষণ খনন, বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজারের ব্যবহার এবং নদীর তীর সংরক্ষণের পরিমাণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের প্রতিটি কাজের প্যাকেজের বর্তমান অবস্থা এবং অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে।

ট্যাগ: উন্নয়ন প্রকল্প ড্রেজিং তুলাই নদী ধরলা নদী নদী খনন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা কমিশন পুনর্ভবা নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র বিআইডব্লিউটিএ

সম্পর্কিত