কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার, ইশতেহারের সঙ্গে মিলতে হবে নতুন প্রকল্প

সংশোধিত এডিপিতে নতুন প্রকল্পের জন্য কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের বিনিয়োগ প্রকল্পে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাধ্যতামূলক।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো ও সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উন্নয়ন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

একই সঙ্গে শর্ত দিয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

২০২৬–২৭ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির জন্য জারি করা নীতিমালায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ নীতিমালাটি জারি করে।

এতে সরকারি বিনিয়োগের ফল বাড়ানো, অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা এবং সৃজনশীল শিল্পে সহায়তা দেওয়ার প্রকল্পকেও অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

তবে সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রয়োজনে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, চলমান প্রকল্পের বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য অর্থায়ন, বাস্তবায়নের সক্ষমতা, ব্যয়, মেয়াদ ও প্রস্তুতি যাচাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

৫০ কোটি টাকার বেশি হলে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

৫০ কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ না হলে তার প্রস্তাব পাঠানো যাবে না। কাজের ধরন বিবেচনায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্পেও এই সমীক্ষা করতে হবে।

একই সংস্থার একই উদ্দেশ্যের একাধিক নতুন প্রকল্প আলাদাভাবে প্রস্তাব না করে একটি প্রকল্পের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে অর্থের পরিমাণ বিবেচনায় অধিগ্রহণের জন্য আলাদা প্রকল্প পাঠাতে হবে।

নিয়মিত পরিচালন ব্যয় থেকে করা সম্ভব এমন কাজের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন প্রকল্পও আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা থেকে পরিবেশ—যেসব খাতে অগ্রাধিকার

দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব-সংশ্লিষ্ট উন্নয়নে নতুন প্রকল্প পাঠাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলা, খাল খনন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং উৎপাদনমুখী প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুনীল অর্থনীতির বিকাশেও নতুন প্রকল্প প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

জলবায়ু অভিযোজনের প্রকল্পে বৈশ্বিক ও জাতীয় তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। একই কাজ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের প্রকল্পে থাকলে তার সঙ্গে দ্বৈততা এড়াতে হবে।

ঋণ নিশ্চিত হওয়া প্রকল্প আগে বিবেচনা

যেসব প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণচুক্তি হয়েছে বা অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

তবে নতুন প্রকল্পে কত অর্থ লাগবে, তা চলমান প্রকল্পের দায় ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর নির্ধারিত সীমা বিবেচনা করে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বাজেটসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে প্রস্তাব পাঠানো যাবে না।

২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় আগে থেকেই থাকা প্রকল্পগুলোর জন্যও নতুন করে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকল্প যাচাই কমিটির সুপারিশ এবং মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে তালিকা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে। যাচাই সভায় সুপারিশ না পাওয়া প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো যাবে না।

প্রস্তাব পাঠানোর শেষ সময় ২৮ অক্টোবর

বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে সরকারি, বৈদেশিক ও নিজস্ব অর্থায়নের নতুন প্রকল্প প্রস্তাব ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠাতে হবে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যাচাই-বাছাই করে ৫ নভেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক বিভাগে পাঠাবে। এসব বিভাগ পরীক্ষা করে সুস্পষ্ট সুপারিশসহ ১২ নভেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবে।

সব প্রস্তাব এডিপি ও আরএডিপি ব্যবস্থাপনার অনলাইন ব্যবস্থা এএমএসের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

ট্যাগ: আরএডিপি উন্নয়ন প্রকল্প এডিপি কর্মসংস্থান পরিকল্পনা কমিশন সরকারি বিনিয়োগ সামাজিক সুরক্ষা

সম্পর্কিত