রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও সরকার কোন দামে তা কিনবে, সেই দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো চলছে বলে জানিয়েছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ—আইএমইডি।
একই সঙ্গে কেন্দ্রটির জ্বালানি কেনার অর্থ জোগাতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে বকেয়া বিল আদায় এবং ব্যাংক থেকে চলতি মূলধনের ব্যবস্থা দ্রুত করার প্রয়োজন উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প পরিদর্শন করেন আইএমইডির পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। তাঁর প্রতিবেদনে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ, প্রকল্পের বাকি কাজ এবং অর্থায়ন নিয়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রের প্রথম ৬৬০ মেগাওয়াটের ইউনিট ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৩ সালের ১২ জুলাই বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। কেন্দ্রের নিজস্ব ব্যবহারের অংশ বাদ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আইএমইডি বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত ভালো চর্চা ও রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে সুপারিশ করা হয়েছে।
জ্বালানি কেনার অর্থ জোগানের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ের প্রয়োজনও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে চলতি মূলধন বাড়ানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে বকেয়া পাওনার পরিমাণ কিংবা প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ ক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অর্থায়নে ঋণের অংশ ৮০ শতাংশ এবং দুই অংশীদারের মূলধন ২০ শতাংশ বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রকল্পের মূল কাজ ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হলেও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছিল ৯৯.৯৪ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৮.৬৪ শতাংশ।
অবশিষ্ট কাজের মধ্যে প্রকল্প এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন এবং ঠিকাদারের অসম্পূর্ণ ছোটখাটো কাজ নিষ্পত্তির বিষয় রয়েছে। আইএমইডি এসব কাজ শেষ করার পাশাপাশি প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণাপত্র পাঠানোর সুপারিশ করেছে।
নথিতে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চে আগের পরিদর্শনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা সেপ্টেম্বরের পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত আইএমইডিকে জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে পরিবেশের সালফার নিঃসরণ কমাতে ব্যবহৃত ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজেশন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে জিপসাম তৈরি হয়, যা বাজারে ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিবেদনে দূষণের পরিমাপ বা নির্গমনের পরীক্ষার ফল দেওয়া হয়নি।
যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি নেই বলেও জানিয়েছে আইএমইডি। দুই দেশের সমঝোতা এবং প্রকল্পের ধারণাপত্রের ভিত্তিতে কাজ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পের জন্য আলাদা ডিপিপির কাঠামো তৈরির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।