গ্রামের দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে নেওয়া একটি প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের জট তৈরি হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রকল্পটির কোনো টাকা ছাড় হয়নি, ব্যয়ও হয়নি। এ সময়ে ক্ষুদ্র ও উদ্যোক্তা ঋণ বিতরণের অগ্রগতিও শূন্য।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) ‘দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা (ইরেসপো)—২য় পর্যায় (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল এইচ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে সভাটি হয়। অনুমোদিত কার্যবিবরণী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
বরাদ্দ বাড়লেও ছাড় হয়নি টাকা
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৮০.৩৮ কোটি টাকা। জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত চার বিভাগের ১৭ জেলার ৫৯ উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রথমে ৩৪.৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোয় বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে তা ৫১.৯৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।
সংশোধিত বরাদ্দ সরকারি বাজেট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আইবাস++-এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পিএল হিসাব খোলা প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানানো হয় সভায়।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, অর্থ ছাড় না হওয়ায় চলতি অর্থবছরে কোনো ব্যয় হয়নি। নির্ধারিত কাজ এগিয়ে নিতে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা একসঙ্গে ছাড় করা প্রয়োজন।
সভায় সংশোধিত বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত করে প্রথম দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ঋণ ও প্রশিক্ষণে পিছিয়ে শুরু
কার্যবিবরণীর অগ্রগতির ছক অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও উদ্যোক্তা ঋণ বিতরণ হয়নি। কিশোরীদের সঞ্চয়ের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার অগ্রগতিও শূন্য।
একই সময়ে ১১ হাজার ৭৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বার্ষিক লক্ষ্যের বিপরীতে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন মাত্র ১৫০ জন, অর্থাৎ ১.২৭ শতাংশ। কিশোরীদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়নি।
তবে সদস্য অন্তর্ভুক্তির কাজ চলেছে। চলতি অর্থবছরে তিন হাজার নারীকে সদস্য করার লক্ষ্যের বিপরীতে আগস্ট পর্যন্ত যুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ১৫২ জন।
প্রকল্পের শুরু থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নারী সদস্য হয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ২৬২ জন, যেখানে লক্ষ্য এক লাখ ১৮ হাজার জন। চার হাজার ৩৭০টি নারী সমিতি গঠনের লক্ষ্যের বিপরীতে হয়েছে চার হাজার ৩২৬টি।
এ সময় পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও উদ্যোক্তা ঋণ বিতরণ হয়েছে ২১৭.৩৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট লক্ষ্য ২২৮.৬০ কোটি টাকা। প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৪৩০ জন, যেখানে লক্ষ্য ৭১ হাজার ২২০ জন।
হোস্টেল নির্মাণের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ
নারীদের সহায়তার এ প্রকল্পে নোয়াখালী পল্লী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নয়তলা হোস্টেল ভবনও নির্মাণ করা হচ্ছে। সভায় ভবনটি প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যে শেষ করা যাবে কি না, তা জানতে চান পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধি।
প্রকল্প পরিচালক জানান, নয়তলার কাঠামোর কাজ, আটতলা পর্যন্ত ইটের গাঁথুনি এবং ছয়তলা পর্যন্ত প্লাস্টারের কাজ শেষ হয়েছে। স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজের পাইপ স্থাপন চলছে।
হোস্টেল নির্মাণের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। প্রকল্প পরিচালক মেয়াদের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান। সভায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনটি শেষ করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়।
প্রকল্পের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩২৭.১৬ কোটি টাকা। কার্যবিবরণীতে সামগ্রিক আর্থিক অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ দেখানো হয়েছে।