চার জেলার ২৯টি বাঁওড়ে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার রুই ও দেশি ছোট প্রজাতির মাছের পোনা ছেড়ে উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়াতে চায় মৎস্য অধিদপ্তর। এ জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, যা পোনার ব্যয়ের প্রায় ১৬.৪ গুণ।
অর্থাৎ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মাত্র ৬.১০ শতাংশ যাবে পোনা ছাড়ায়। বাকি ৯৩.৯০ শতাংশ বা প্রায় ৪৪.৬৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খাতে।
এসব খাতের মধ্যে রয়েছে সভা, সেমিনার, অফিস ভাড়া এবং এসি, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে পোনার তুলনায় অন্যান্য খাতে এত বেশি অর্থ রাখায় প্রকল্পের ব্যয় অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ নামের প্রকল্পটি যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ১৫ উপজেলায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছর। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে মৎস্য অধিদপ্তর।
প্রস্তাবে আট লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি কম্পিউটার কেনার কথা রয়েছে। প্রতিটির জন্য গড়ে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ টাকা। পোনা অবমুক্তকরণ ও বাঁওড়ের মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এসব কম্পিউটারের ব্যবহার কী হবে, তা ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একইভাবে এসি ও ফটোকপি মেশিন কেনা, অফিস ভাড়া এবং সভা-সেমিনারের ব্যয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কতটা প্রয়োজন, সেই প্রশ্নও রয়েছে। এসব ব্যয় থেকে বাঁওড়নির্ভর মানুষ কী সুফল পাবেন, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১ অক্টোবরের চিঠি অনুযায়ী, প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি নিয়ে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২২ এপ্রিল অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় প্রকল্পের জনবল নির্ধারণ নিয়ে সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশ ডিপিপিতে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ছয়টি পদে জনবল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পদে প্রেষণে, একটি পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে এবং দুটি পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পোনা ছাড়ার পাশাপাশি তদারকি ও সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে পোনার ব্যয়ের প্রায় ১৫.৪ গুণ অর্থ অন্যান্য খাতে রাখার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনে কোন খাত কতটা অবদান রাখবে এবং সেই সুফল স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে, তা দিয়েই প্রকল্পের ব্যয়ের যৌক্তিকতা বিচার করা প্রয়োজন।