জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে চীনের সঙ্গে আলোচনার খসড়া প্রস্তুত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য চীনের তৈরি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। সম্ভাব্য এই ক্রয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অন্যান্য যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ইউএভি সংগ্রহের উদ্যোগ রয়েছে।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতোমধ্যে আলোচনা করেছে এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে বলে জানান তিনি।

প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরেই ক্রয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। অর্থের সংস্থান না হলে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে উদ্যোগটি নেওয়া হবে।

তবে সরকার মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কতটি জে-১০সিই কেনা হবে, চুক্তির মোট মূল্য কত হবে কিংবা বিমানগুলো কখন সরবরাহ করা হবে—এসব তথ্য প্রকাশ করেনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত সরকারি নথির ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২২০ কোটি ডলার বা প্রায় ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা। ওই পরিকল্পনায় বিমান কেনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে মঙ্গলবার ঘোষিত বর্তমান আলোচনা প্রক্রিয়ায় ওই সংখ্যা ও ব্যয় অপরিবর্তিত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৪টি বিমান কেনার বিষয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে, তবে তথ্য উপদেষ্টা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করেননি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় জে-১০ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতাও বাংলাদেশের আগ্রহের ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে। একই মানের ইউরোপীয় যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জে-১০সিই হলো চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। পাকিস্তান বর্তমানে এই সংস্করণের নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী। গত দুই দশকে চীন বাংলাদেশকে যুদ্ধবিমান, নৌযান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে দেশটির অবস্থান রয়েছে।

আরও পড়ুন: অর্থসংকটের মধ্যে যুদ্ধবিমান: টাকা আসবে কোথা থেকে?

ট্যাগ: চীন জে-১০ প্রতিরক্ষা বিমান বাহিনী যুদ্ধবিমান

সম্পর্কিত