যমুনা সেতু এলাকায় আরও ৫৫ মেগাওয়াট সৌরকেন্দ্রের উদ্যোগ

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ১২০ একর জমি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমি ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষের বোর্ড।

যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ১২০ একর জমি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমি ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষের বোর্ড।

তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি পাওয়ার পর জমি ইজারার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রস্তাবিত জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ৩০ জুলাই রাজধানীর বনানীর সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সভার কার্যবিবরণী ৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়।

৩০ বছরের জন্য জমি ইজারা

বোর্ড সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যমুনা সেতু সাইটে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চায় নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রায় ১২০ একর জমির প্রয়োজন হবে। এ জন্য যমুনা সেতু এলাকার পশ্চিম পাশে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদে জমি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি এবং কর্তৃপক্ষের বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ কারণে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি পাওয়ার শর্তে জমি ইজারার নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বোর্ড।

অনাপত্তি পাওয়ার পর জমির পরিমাণ, ইজারামূল্য, ব্যবহারের শর্ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

পাশেই চলছে ৬৮ মেগাওয়াটের কেন্দ্র

নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এর আগেও যমুনা সেতু এলাকায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জমি নিয়ে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিরাজগঞ্জ এলাকায় ২১৪ একর জমি ৩০ বছরের জন্য ইজারা নেয়। ওই জমিতে ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যমান কেন্দ্রটি থেকে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় একই এলাকার পশ্চিম পাশে নতুন করে ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি।

নতুন কেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে যমুনা সেতু এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ১২৩ মেগাওয়াট।

সব অবকাঠামোয় সোলার পিভি

শুধু যমুনা সেতু এলাকার জমিতে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নয়, নিজেদের আওতাধীন বিভিন্ন অবকাঠামোর ছাদ ও খালি জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অধীন সেতু, টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টোল প্লাজা, সার্ভিস এরিয়া ও প্রশাসনিক ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত অবকাঠামোয় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে গ্রিড-সংযুক্ত ছাদভিত্তিক সোলার পিভি সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

সভায় বলা হয়েছে, সরকারি অবকাঠামোয় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আইন ও বিধিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬-তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান নেই বলে বোর্ড সভায় জানানো হয়।

ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থায়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য আইন ও প্রয়োজনীয় বিধিবিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিদ্যমান অবকাঠামোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সেতু, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখার সুযোগ তৈরি করবে এই নীতিগত পরিবর্তন।

ওপেক্স মডেলের পরামর্শ

বোর্ড সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার বা ওপেক্স মডেল বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওপেক্স মডেলে কোনো বেসরকারি বা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি স্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যবস্থা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করে। এতে সেতু কর্তৃপক্ষকে শুরুতেই বড় অঙ্কের মূলধনি বিনিয়োগ করতে হয় না।

তবে কোনো স্থাপনায় সোলার পিভি বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব কি না, সেটিও প্রকল্প গ্রহণের আগে নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজ সন্তোষজনক হলে পরে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন অবকাঠামোগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করে একটি সমন্বিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।

মহাপরিকল্পনায় কোন সেতু, টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টোল প্লাজা কিংবা প্রশাসনিক ভবনে কী পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, তার হিসাব থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, উৎপাদনক্ষমতা, গ্রিড সংযোগ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হবে।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষের।

ট্যাগ: বাসেক যমুনা সেতু লিজ সেতু কর্তৃপক্ষ সেতু বিভাগ সৌরবিদ্যুত

সম্পর্কিত