ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় ৫০ হাজার সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার।
তবে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকাতেও উদ্যোগটি রাখা হয়নি, যদিও প্রস্তাবে বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের উদ্যোগটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পের পুরো ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় মোট ৫০ হাজার সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার বা উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়কে প্রস্তাবিত স্থাপনার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রতিটির পেছনে গড় বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। তবে এর মধ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও জনবলসহ অন্যান্য ব্যয়ও রয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কল্যাণ, ধর্মীয় চেতনা ও সম্প্রীতি সুসংহত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চেতনা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতে সামাজিক সমাবেশ, ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠান আয়োজনের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
গত ১৬ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে চিঠি পাঠায়।
চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় নেই। জনবল বিবেচনায় উদ্যোগটি আন্তমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সভায় তুলতে প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ২৪ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির বিশেষ সভার আলোচ্যসূচিতে প্রকল্পটি রাখা হয়।
ওই সভায় বিবেচনার জন্য থাকা ১১টি প্রকল্পের মধ্যে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটিই ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে মোট ৬৫৮টি পদ ও সেবা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অর্থ বিভাগের জনবল নির্ধারণসংক্রান্ত কমিটি পর্যালোচনার পর ১০টি পদ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৫৯৮টি সেবা—মোট ৬০৮ জনবলের সুপারিশ করেছে।
সুপারিশ করা পদগুলোর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক, উপপ্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রয়েছে।
আউটসোর্সিংয়ের তালিকায় তথ্যপ্রযুক্তি, পেশাগত, প্রকল্প, কারিগরি, কম্পিউটার, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সেবা রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্পের জনবলের কোনো পদ রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা যাবে না এবং প্রকল্প শেষে এসব পদ বা সেবা বিলুপ্ত হবে।
আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনবল নিলেও সেবাকর্মীর পারিশ্রমিক সরাসরি তাঁর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে কোনো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও করা হয়নি এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন পরিচালিত হয়নি।
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩ অনুযায়ী প্রকল্পটি কোনো পরিবেশগত শ্রেণিভুক্ত নয় বলে প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে।
এডিপির তালিকায় না থাকা অবস্থায় বাস্তবায়নকাল ইতোমধ্যে শুরু দেখানো, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়া ৫০ হাজার স্থাপনার পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক বরাদ্দের মানদণ্ড প্রকল্প মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে স্থাপনা নির্বাচনে স্বচ্ছতা, একই স্থাপনায় একাধিক প্রকল্পের অর্থায়ন ঠেকানো, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সংসদ সদস্যদের সুপারিশের সঙ্গে স্থানীয় প্রয়োজনের ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হবে।